দেশের অন্যতম বৃহৎ ইসলামী ওয়েবসাইটে স্বাগতম 

ইমাম আহমদ রেযা খাঁন (রহঃ)


জন্মঃ  হিজরী চতুর্দশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ আলা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খাঁন বেরেলভী (রহঃ) ১০ই শাওয়াল, ১২৭২ হিজরী মোতাবেক ১৪ জুন ১৮৫৬ ইংরেজী, রোজ শনিবার যোহরের সময় ভারতের প্রসিদ্ধ নগরী বেরেলী শরীফে (ইউ.পি)’র জাসুলী মহল্লায় ঐতিহ্যবাহী পাঠান পরিবারে জন্মগ্রহন করেন।

শিক্ষাঃ  মাত্র তের বছর দশ মাস চার দিন বয়সে আলা হযরত কোরআন, হাদীস, তাফসীর, আরবী সাহিত্য সহ সমস্ত আকলী ও নকলী এলেম শিক্ষা সমাপ্ত করেন। ঐ দিনই তিনি আপন পিতা আল্লামা নকী আলী খান (রহঃ) এর তত্ত্বাবধানে প্রথম ফতোয়া লিখে মুফতী পদে সমাসীন হন। আ’লা হযরত (রহঃ) এর মুখস্ত শক্তির অবস্থা এমন ছিল যে, একদিকে ওস্তাদ ছবক দেন অপরদিকে তিনি এক দুবার পড়েই কিতাব বন্ধ করে দিতেন। যখন ওস্তাদ ছবক শুনতেন তখন পুংঙ্খানুপুংঙ্খভাবে তা শুনিয়ে দিতেন। ওস্তাদ এ অবস্থা দেখে আশ্চর্য্য হয়ে বলতেন যে, হে “আহমাদ মিয়া” তুমি মানব না জ্বীন যে, আমি পড়াতে দেরী কিন্তু তোমার শুনাতে বিলম্ব হয় না। বস্তুতঃ এ উক্তিটি ওস্তাদের দোয়া স্বরূপই ছিল।

বায়আত ও খেলাফতঃ  আ’লা হযরত (রহঃ) এর সম্মানিত পিতা আল্লামা নক্বী আলী খাঁন (রহঃ) এর সাথে ওলীকুল সম্রাট যুগ শ্রেষ্ঠ কুতুব সৈয়দ আলে রাছুল মারহারাভীর দরবারে হাজির হয়ে ক্বাদেরিয়া সিলসিলার বাইআত গ্রহণ করে ধন্য হন। মুর্শিদে বরহক হযরতের আধ্যাত্মিক জ্ঞানকেও পরিপূর্ণতা দান করে সমস্ত সিলসিলার খিলাফত-বাইআত এর ইজাযত এবং হাদীছ শরীফের সনদ দ্বারা ধন্য করেন।

যুগের মুজাদ্দিদঃ  হুজুর আ’লা হযরত (রহঃ) এর পবিত্র জীবনের ইতিহাস লক্ষ্য করলে পরিস্কার বুঝা যায় যে, মহান আল্লাহ এ বিশেষ বান্দাহকে তাঁর দ্বীনের হিফাজতের জন্যেই সৃষ্টি করেছেন। সেই নির্মম সময়ে যখন কিছু সংখ্যক সার্থান্বেষী ধর্মগুরু দ্বীনকে নিজ ব্যাখ্যায় পরিবর্তন করতে লাগলো সেই সময় তিনি মুসলিম উম্মাহকে শরীয়তের বিলোপ্ত বিধানাবলী স্বরণ করিয়ে দেন, নূরে খোদা মুহাম্মদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লামা’র মৃত সুন্নাতকে জিন্দা করেন, বিশেষ ইলম (জ্ঞান) ও ধৈর্য্য সাধনায় সত্যের বাণী ঘোষনা করে মিথ্যা ও এর অনুসারীদের চিহ্নিত ও নির্মূল করেন এবং সত্যের পতাকাকে উজ্জীবিত করেন, তিনিই হলেন ১৪ শত শতাব্দীর মুজাদ্দিদ, আ’লা হযরত আহমাদ রেজা বেরলভী(রহঃ)। 

বিধর্মী ইংরেজদের প্রতি ঘৃণাঃ  আ’লা হযরত (রহঃ) ইংরেজদের ধর্মাচার, তাদের শিক্ষানীতি ও তাদের কাছারীর প্রতি যথেষ্ঠ ঘৃনা পোষণ করতেন। এমনকি তিনি তৎকালীন ইংরেজ সম্রাট ও সম্রাজ্ঞীর ফটো সম্বলিত পোষ্ট কার্ড ও খামকে উল্টো করেই ঠিকানা লিখতেন, যাতে রাণী ভিক্টোরিয়া সপ্তম এওর্য়াড এবং পঞ্চম জর্জের মাথা নিচু হয়ে থাকে। তিনি বলতেন, আহমাদ রেজার জুতোও ইংজেদের কাছারীতে যাবে না। বিরুদ্ধচারীরা অনেক চেষ্টা করেছে, মামলা দায়ের করেছে যেন যে কোন প্রকারে হোক তাঁকে কাছারীতে হাজির হতে হয়; কিন্তু প্রতিটি মামলায় হযরতকে অদৃশ্য সাহায্য হিফাজত করেছে, পক্ষান্তরে শত্র“দের ভাগ্যে জুটেছে বেদনাদায়ক অপমান।

হজ্জে বায়তুল্লাহ্ঃ  আ’লা হযরত (রহঃ) ১৩২৩ হিজরী মোতাবেক ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয়বার বায়তুল্লাহ শরীফ হজ্জ এবং হারামাইন-শরীফাঈন এর যিয়ারত করেন। এ সফরে হিযাজবাসী ওলামা কেরাম তাঁর সম্মানে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানান। অতঃপর আ’লা হযরত প্রিয়নবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লামা’র স্মৃতি বিজড়িত মদীনা মুনাওয়ারায় তাশরীফ নেন। সেখানেও তাঁকে বিপুল সংবর্ধনা ও সম্মান প্রদর্শন করা হয়।

ওফাতঃ  আ’লা হযরত (রহঃ) এর ওফাত শরীফ হয়েছিল ২৫ সফর ১৩৪০ হিজরী মোতাবেক ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ, জুমআ বার (শুক্রবার) বেলা ২টা ৩৮ মিনিটে বেরেলী শরীফে। বেরেলী শরীফ শহরের সওদাগরাঁ মহল্লায় দারুল উলূম মানজারুল ইসলাম এর উত্তর পাশে এক আলীশান দালানের অভ্যন্তরে তাঁর মাজার শরীফ। তাঁর ওরস শরীফ; যা শরীয়তেরই প্রতিচ্ছবি, প্রতি বছর ২৫শে সফর অনুষ্ঠিত হয়। তাতে সারা ইসলামী বিশ্বের চতুর্দিক থেকে প্রসিদ্ধ ওলামা, খতীব ও পীর মাশায়েখ শরীক হয়ে ধন্য হয়ে থাকেন।


নির্বাচিত বিষয়সমুহ
সর্বাধিক পঠিত প্রবন্ধসমুহ
গুরুত্বপূর্ণ পেইজগুলো

This page has 802 hits