দেশের অন্যতম বৃহৎ ইসলামী ওয়েবসাইটে স্বাগতম 


রমজানের অপেক্ষা


রমজান মু’মিনের জন্য বড় আকাঙ্খিত মাস। রহমত, বরকত, মাগফিরাতের এই মাসটি ¯্রষ্টার সাথে সৃষ্টির সুসম্পর্ক তৈরি করার মাস। খোদাভীরুতার চরম উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে মনিবের কৃতজ্ঞ বান্দাদের কাতারে স্থান করে নিতে রমজান বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হচ্ছে-
يَااَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ
অর্থাৎ- “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন করে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপরও ফরজ করা হয়েছিল। সম্ভবতঃ এর ফলে তোমরা তাক্বওয়া অর্জন করতে পারবে।”  

রমজান মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত লিখে শেষ করা যাবে না। এ প্রসঙ্গে একটি মাত্র হাদিস উল্লেখ করছি, যা দ্বারা খুব সহজেই রমজানের ফজিলত সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। রাসুলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
كُلُّ عَمَلِ ابْنِ ادَمَ يُضَاعَفُ الْحَسَنَةُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا اِلَى سَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ اِلَّا الصَّوْمَ فَاِنَّهُ لِي وَاَنَا أَجْزِي بِهِ يَدَعُ شَهْوَتَهُ وَطَعَامَهُ مِنْ أَجْلِي لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ وَلَخُلُوْفُ فِيْهِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ مِنْ رِيْحِ الْمِسْكِ
অর্থাৎ- “আদম সন্তানের প্রতিটি নেক কাজের জন্য ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত সাওয়াব নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু আল্লাহ বলেন, রোজা এর ব্যতিক্রম। সে একমাত্র আমার জন্যই রোজা রেখেছে এবং আমিই নিজ হাতে এর পুরষ্কার দিবো। সে আমার জন্য যৌন বাসনা ও পানাহার ত্যাগ করেছে। রোজাদারের জন্য রয়েছে দুইটি আনন্দ। একটি হচ্ছে ইফতারের সময় এবং অন্যটি হচ্ছে আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের সময়। আল্লাহর কাছে রোজাদারের মুখের গন্ধ মেশক-আম্বরের সুঘ্রাণের চাইতেও উত্তম।”

অত্যন্ত বরকতময় মাসটির জন্য মু’মিনের অপেক্ষার প্রহর গণনা শুরু হয় রজব মাস থেকে। রমজান মাস পাওয়ার জন্য দয়াল নবী রাউফুর রাহীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত ব্যাকুল ছিলেন যে, রজব মাস শুরু হওয়ার সাথে সাথে তিনি এই বলে দোয়া করতেন-
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَجَب، وَشَعْبَانَ، وَبَلِّغْنَا رَمَضَانَ
অর্থাৎ- “হে আল্লাহ, রজব ও শাবান মাসে আমাদের জন্য বরকত দান করুন এবং আমাদেরকে রমজান পর্যন্ত পৌছিয়ে দিন।”  
রমজান মাস প্রভুর কাছ থেকে বান্দার যাবতীয় পাওনা বুঝে নেওয়ার মাস। বান্দার জীবনের গুনাহগুলো মাফ করিয়ে নেওয়ার উপযুক্ত সময় পবিত্র রমজান মাস। একবার জীবরাঈল আলাইহিস সালাম বললেন, “যে রমজান মাস পেয়েও তার গুনাহ ক্ষমা করে নিতে পারলো না, সে ধ্বংস হোক”। এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “আমীন”।
অতএব, এই মাস যেন বিফলে চলে না যায়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা প্রতিটি মু’মিনের কর্তব্য।


নির্বাচিত বিষয়সমুহ
সর্বাধিক পঠিত প্রবন্ধসমুহ
গুরুত্বপূর্ণ পেইজগুলো

This page has 1844 hits