দেশের অন্যতম বৃহৎ ইসলামী ওয়েবসাইটে স্বাগতম 


কুরবানী ওয়াজিব না সুন্নাত


আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পবিত্র জিলহজ¦ মাসের ১০-১২ তারিখে হালাল পশু জবাই করাকে কুরবানী বলে। কুরবানী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি আদায় করা ওয়াজিব। বিশেষ করে ইমামে আযম ইমাম আবু হানিফা রাহমাতুল্লাহি আলাইহির এটাই মত। ইমাম মালেক ও ইমাম আহমদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহিমারও একটি মত রয়েছে কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার পক্ষে। সালাফী ইমাম ইবনে তাইমিয়া এই মতটাকেই গ্রহণ করেছেন। তথাপিও আমাদের দেশে একটি দল ‘কুরবানী ওয়াজিব নয় বরং সুন্নাত’ এই মত প্রচার করছে। ফলে অনেকেই বিভ্রান্তিতে পড়ে যাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে দলিল ভিত্তিক কিছু আলোচনা করা হলো-
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করছেন-
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَاَنْحَرْ
অর্থাৎ- “তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর এবং কুরবানী কর।” 

অত্র আয়াতে কারীমায় আল্লাহ তা’আলার স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে কুরবানী করার ব্যাপারে। আর আল্লাহর নির্দেশ পালন করা ওয়াজিব।
কুরবানীর প্রসঙ্গে হাদিসে শরীফে এসেছে, রাসুলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اِنَّ عَلَى كُلِّ أَهْلِ بَيْتٍ فِي كُلِّ عَامٍ أُضْحِيَّةً
অর্থাৎ- “হে মানব সকল! প্রত্যেক পরিবারের দায়িত্ব হল প্রতি বছর কুরবানী দেওয়া।”   
অপর এক হাদিসে রাসুলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
مَنْ كَانَ لَهُ سَعَةٌ وَلَمْ يُضَحِّ فَلاَ يَقْرَبَنَّ مُصَلَّانَا
অর্থাৎ- “যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্তে¡ও কুরবানী করে না, সে যেন আমাদের ঈদের মাঠের কাছেও না আসে।”   
অত্র হাদিসে স্পষ্টভাবেই প্রতিয়মান হচ্ছে যে কুরবানীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। অন্যথায় কুরবানী পরিত্যাগকারীর ব্যাপারে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতো কঠিন কথা বলতেন না। কুরবানী পরিত্যাগকারীদেরকে তিনি ঈদগাহে ঈদের নামাজে আসতে নিষেধ করেছেন। অতএব, কুরবানী ওয়াজিব হওয়াই অধিক  যুক্তিযুক্ত।





নির্বাচিত বিষয়সমুহ
সর্বাধিক পঠিত প্রবন্ধসমুহ
গুরুত্বপূর্ণ পেইজগুলো

This page has 2446 hits