দেশের অন্যতম বৃহৎ ইসলামী ওয়েবসাইটে স্বাগতম 


লাইলাতুল বরাত, এক মহিমান্বিত রজনী


আল্লাহ তা’আলা সারা বছরের মধ্যে যে কয়টি রাতকে সম্মানিত করেছেন, তার মধ্যে লাইলাতুল বরাত অন্যতম। আমাদের মাঝে প্রচলিত লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাতকে কুরআনুল কারীমে লাইলাতুম মুবারাকা বলে ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে। আর হাদিসে এই মহিমান্বিত রাতকে লাইলাতুন নিসফি মিন শা’বান বলা হয়েছে।
পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হচ্ছে-
حم وَالْكِتَابِ الْمُبِيْنِ اِنَّ أَنْزَلْنَاهُ فِى لَيْلَةٍ مُبَارَكَةٍ اِنَّا كُنَّامُنْذِرِيْنَ فِيْهَا يُفْرَقُ كُلُّ اَمْرٍ حَكِيْمٍ
অর্থাৎ- “হা-মীম। সুস্পষ্ট কিতাবের শপথ। নিশ্চয়ই আমি এই সুস্পষ্ট কিতাবকে বরকতময় রাতে নাযিল করেছি। নিশ্চয়ই আমি ভীতি প্রদর্শনকারী। এই মুবারক রাতে প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ হিকমতপূর্ণ কাজের ফয়সালা হয়ে থাকে।”  
অত্র আয়াতে লাইলাতুম মুবারাকা বা বরকতময় রাত বলতে কোন রাতকে বুঝানো হয়েছে তা নিয়ে মুফাসসিরীনে কেরামের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। অনেকে লাইলাতুম মুবারাকা বলতে লাইলাতুল কদরের কথা বলেছেন, আবার অনেকে লাইলাতুম মুবারাকা বলতে লাইলাতুল বরাতের কথা বলেছেন। তবে রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, লাইলাতুম মুবারাকা হলো লাইলাতুন নিসফি মিন শা’বান বা শা’বান মাসের মধ্য রজনী। এছাড়াও হযরত ইকরামা রাদিয়াল্লাহু আনহু, হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু সহ বহু সংখ্যক সাহাবী একই মত ব্যক্ত করেছেন।

লাইলাতুল বরাত বা লাইলাতুল নিসফি মিন শা’বান সম্পর্কে হাদিস শরীফে এসেছে-
عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ:‏‏‏‏ فَقَدْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلَةً، ‏‏‏‏‏‏فَخَرَجْتُ فَإِذَا هُوَ بِالْبَقِيعِ، ‏‏‏‏‏‏فَقَالَ:‏‏‏‏ أَكُنْتِ تَخَافِينَ أَنْ يَحِيفَ اللهُ عَلَيْكِ وَرَسُولُهُ ؟ قُلْتُ:‏‏‏‏ يَا رَسُولَ اللهِ ، ‏‏‏‏‏‏إِنِّي ظَنَنْتُ أَنَّكَ أَتَيْتَ بَعْضَ نِسَائِكَ، ‏‏‏‏‏‏فَقَالَ:‏‏‏‏ إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ يَنْزِلُ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا، ‏‏‏‏‏‏فَيَغْفِرُ لِأَكْثَرَ مِنْ عَدَدِ شَعْرِ غَنَمِ كَلْبٍ
অর্থাৎ- “হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হারালাম, কোথাও খুঁজে পাচ্ছিলাম না। ঘর থেকে বের হয়ে দেখলাম যে, তিনি জান্নাতুল বাকী কবরস্থানে অবস্থান করছেন। তিনি আমাকে বললেন, হে, আয়েশা! তুমি কি ভয় পাচ্ছ যে, আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল তোমার উপর অন্যায় করবেন? আমি বললাম যে, হে আল্লাহর রাসুল! আমি ধারণা করেছিলাম যে, আপনি আপনার অন্য কোন স্ত্রীর ঘরে অবস্থান করছেন। অতঃপর তিনি বললেন, নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা মধ্য শাবানের রাতে পৃথিবীর আকাশে অবতীর্ণ হন এবং বনু কালবের মেষপালের পশম পরিমাণের চেয়েও অধিক পরিমাণে তার বান্দাদেরকে ক্ষমা করে দেন।”  


অপর এক হাদিসে এসেছে-
عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ، ‏‏‏‏‏‏عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:‏‏‏‏ إِنَّ اللهَ لَيَطَّلِعُ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، ‏‏‏‏‏‏فَيَغْفِرُ لِجَمِيعِ خَلْقِهِ إِلَّا لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ
অর্থাৎ- “হযরত আবু মুসা আল আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ অর্ধ শা’বানের রাতে দুনিয়াবাসীর প্রতি কৃপা দৃষ্টি দান করেন। তিনি মুশরিক এবং মুসলমানদের মধ্যে ফ্যাসাদ  সৃষ্টিকারী ছাড়া সকল বান্দাহকে ক্ষমা করে দেন।”   (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং- ১৩৯০)
এভাবে লাইলাতুল বরাতের ব্যাপারে আরো অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। অতএব, যারা লাইলাতুল বরাত বলতে কিছু নেই বলে  প্রচার করে তাদের কথা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য  নয়।


নির্বাচিত বিষয়সমুহ
সর্বাধিক পঠিত প্রবন্ধসমুহ
গুরুত্বপূর্ণ পেইজগুলো

This page has 1845 hits