দেশের অন্যতম বৃহৎ ইসলামী ওয়েবসাইটে স্বাগতম 


কুরবানী সংক্রান্ত মাসআলা


কুরবানীর সংক্রান্ত বিধান, নিয়ম-কানুন ও পশু জবাই করার পদ্ধতি সম্পর্কে নি¤েœ আলোচনা করা হলো: 
কুরবানী কার উপর ওয়াজিব: 
কোন সুস্থমস্তিষ্ক, প্রাপ্তবয়স্ক, মুসলিম নর-নারী নিসাব পরিমান সম্পদের মালিক হলে, তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব। যাকাতের মতো কুরবানীর জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদের ১ বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত নয়। বরং ১২ই জিলহজ্বের দিনেও যদি কেউ নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় তবুও তার উপর কুরবানী ওয়াজিব। 
যে সকল পশু কুরবানী দেওয়া যাবে: 
উট, মহিষ, গরু, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা এ সকল গৃহপালিত পশু দ্বারা কুরবানী করা যায়। তবে বকরী, খাশী, ভেড়া ও দুম্বা কমপক্ষে পূর্ন এক বছর বয়সের হতে হবে। তবে ভেড়া ও দুম্বা যদি এক বছরের কিছু কমও হয় কিন্তু এমন মোটা-তাজা যে দেখতে এক বছরের মতো মনে হয় তাহলে তা দ্বারাও কুরবানী করা জায়েয। ছাগল কোন অবস্থাতেই এক বছরের কম হলে তা দ্বারা কুরবানী সহীহ হবে না। গরু, মহিষ এর বয়স কমপক্ষে দুই বছর হতে হবে। এর কম হলে কুরবানী সহীহ হবে না। উট কমপক্ষে পাঁচ বছরের হতে হবে।


কেমন পশু কুরবানী দেওয়া যাবে? 
কুরবানীর পশু মোটা-তাজা হওয়া উত্তম। যে পশু এত দূর্বল ও রুগ্ন যে তার জবাইয়ের স্থান পর্যন্ত হেটে যেতে পারে না তা দ্বারা কুরবানী করা জায়েয নয়। যে পশুর শিং একেবারে গোড়া থেকে ভেঙ্গে গেছে তা দ্বারা কুরবানী জায়েয নয়। যে পশুর দুটি চোখই অন্ধ বা একটি চোখ পূরো অন্ধ বা একটি চোখের তিন ভাগের এক ভাগ বা আরো বেশি দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গিয়েছে সে পশু দ্বারা কুরবানী করা জায়েয নয়। যে পশুর কোন দাঁত নেই বা এত বেশি দাঁত পড়ে গিয়েছে যে খাবার চিবিয়ে খেতে পারে না এমন পশু দ্বার কুরবানী করা জায়েয নয়। যে পশুর লেজ বা কোন একটি কানের এক তৃতীয়াংশ বা তদাপেক্ষা বেশি কেটে গেছে সে পশু দ্বারা কুরবানী করা জায়েয হবে না। খাশিকৃত ছাগল দ্বারা কুরবানী করা জায়েয।
শরীক কয়জন হতে পারবে? 
ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা এক ব্যক্তির নামেই দিতে হবে। একাধিক শরীক হতে পারবে না। উট, গরু ও মহিষে সর্বোচ্চ সাতজন শরীক হতে পারে। সাতের অধিক শরিক হলে কারো কুরবানী সহীহ হবে না। শরীকের সংখ্যা জোড় বা বিজোড় যে কোন সংখ্যা হতে পারে। গরু, মহিষ ও উটে কয়েকজন মিলে শরীক হলে সকল শরীকের নিয়ত সহীহ তথা আল্লাহকে সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হতে হবে। যদি কোন একজন শরীকেরও গলদ নিয়ত থাকে যেমন লোক দেখানোর জন্য কুরবানী করা, গোশত খাওয়ার জন্য কুরবানী করা, তবে কারো কুরবানী সহীহ হবে না। তাই শরীক নির্বাচনের ক্ষেত্রে খুব সতর্কতার সাথে নির্বাচন করতে হবে।


পশু জবাইয়ের নিয়ম:
কোরবানীর পশু নিজে জবাই করা উত্তম। নিজে ভালভাবে জবাই করতে না পারলে অন্য কাউকে দিয়ে করাবে। সেক্ষেত্রে কুরবানীদাতা জবাই এর স্থানে উপস্তিত থাকবে। কুরবানীর পশুকে মাথা দক্ষিন দিকে দিয়ে কেবলামুখি করে শুইয়ে দিবে। এটা সুন্নত। অতঃপর এই দু'আটি পড়া উত্তম- 
إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفاً وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ. إِنَّ صَلاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ
এর পর “বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার” বলে জবাই করবে। হলক্ব ও কন্ঠের মধ্যখানে জবাই করতে হবে। নতুবা পশুটি হালাল হবে না। ধারালো অস্ত্র দ্বারা জবাই করা উত্তম। জবাইয়ের পর পশুর জান বের হবার পূর্বে চামড়া ছোলা, রগ কাটা, ছুরির আগা দিয়ে গলার হাড্ডিতে আঘাত করা বা অন্য কোন অঙ্গ কাটা মাকরূহ। এক পশুর সামনে অন্য পশুকে জবাই করবে না।
গোশত বন্টনের নিয়ম: 
মুস্তাহাব বা উত্তম হল কুরবানীর গোশত তিন ভাগ করে এক ভাগ নিজে রাখবে, এক ভাগ গরীব মিসকীনকে দিবে এবং এক ভাগ আত্মীয়- সজন ও প্রতিবেশীকে দিবে। অবশ্য কেউ যদি পুরো গোশত নিজে রাখে বা পুরোটা বিলিয়ে দেয় তবে এত কোন অসুবিধা নেই।
কুরবানীর চামড়ার বিধান:
কুরবানীর পশুর চামড়া পরিশোধন করে নিজে ব্যবহার করা জয়েয। যদি কেউ কুরবানীর চামড়া বিক্রি করে তবে তার পুরো মুল্য ছদকাহ করা ওয়াজিব। কুরবানীর পশুর চামড়ার মুল্য ছদকাহ করার নিয়তে বিক্রি করবে। নিজে খরচ করার নিয়তে বিক্রি করা জায়েয নেই। কুরবানীর চামড়ার মুল্য গরীব-মিসকীনদের মাঝেই ছদকাহ করতে হবে। তা দ্বারা মসজিদ মাদ্রাসা নির্মাণ, বেতন বা পারিশ্রমিক প্রদান ইত্যাদি কাজে ব্যয় করা যাবে না। কুরবানীর চামড়ার ব্যপারে উত্তম পন্থা হল তা গরীব আত্মীয় স্বজন বা দ্বীনী শিক্ষায় অধ্যয়নরত গরীব ও এতিম ছাত্রদেরকে সরাসরি দান করে দেওয়া।



নির্বাচিত বিষয়সমুহ
সর্বাধিক পঠিত প্রবন্ধসমুহ
গুরুত্বপূর্ণ পেইজগুলো

This page has 2447 hits